দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটে ‘বি-২’ পর্যায়ের ‘ফিজিক্স টেস্ট’সহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক শেষ ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান শনিবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরীক্ষাগুলোর প্রতিবেদন বুধবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসের শেষ দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বায়েরা থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার ওপর।
শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
সম্প্রতি রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, পাওয়ার স্টার্টআপের পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। সেই হিসাবে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি পর্যায়ে নির্ভুল পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং বায়েরা থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
রূপপুর কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে বাংলাদেশ। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রাথমিক বাস্তবায়ন মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে মূল চুক্তি অনুযায়ী, সময় বাড়লেও ইউরো বা ডলারে নির্ধারিত ঠিকাদারি ব্যয় বাড়েনি।
তবে স্থানীয় বাজারে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।