সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের পরামর্শ সম্পাদকদের

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা।

বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের পরামর্শ সম্পাদকদের

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা।

‎রোববার সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সঙ্গে সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

‎সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের দেওয়া পরামর্শের জবাবে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা এ বিষয়ে একমত। বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটিতে যোগ দেওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরোধী দল যখনই কমিটিতে আসবে, তখনই তাদের স্বাগত জানানো হবে।

‎সভা শেষে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জানুয়ারিতে বছরের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। বিল পাস হওয়ার পর সাংবিধানিক কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন হবে।

‎মতবিনিময়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

‎যেসব পরামর্শ এসেছে

‎রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ দেন। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং ঐকমত্য নিশ্চিত করার ওপর অনেকে জোর দেন।

‎তাঁরা বলেন, বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল নেই। সবাই মিলে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিলে সেটিই ভালো হবে। অন্যথায় অতীতের মতো সংকট থেকে যেতে পারে।

‎বৈঠক সূত্র জানায়, অতীতের মতো আলোচনা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের একক নিয়ন্ত্রণের বাইরে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‎প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান যাতে একই ব্যক্তি হতে না পারেন, সে বিধান করার পরামর্শও এসেছে। কেউ কেউ বলেন, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার মানসিকতার ফল অতীতে ভালো হয়নি, সামনেও ভালো নাও হতে পারে।

‎অনেক সম্পাদক ও সাংবাদিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও এর কাঠামো নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান না করা এবং বিচার বিভাগকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার পরামর্শও এসেছে।

‎বাংলাদেশের বাস্তবতায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, এ প্রশ্নও কেউ কেউ তুলেছেন। এটি করতে হলে এমনভাবে করতে হবে, যাতে উচ্চকক্ষে শুধু নিম্নকক্ষের আসনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব চালু না করা হয়। ভিন্নমত ও বিরোধী দলের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‎সভা শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা কমিটিকে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকে পরবর্তী সময়ে লিখিত আকারে প্রস্তাব পাঠাবেন বলেও জানিয়েছেন।

‎সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সম্পাদকদের মধ্যে অনেকেই বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ করানোর জন্য আহ্বান জানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিটিও এ বিষয়ে একমত। বিরোধী দল কমিটিতে এসে বক্তব্য দিলে সবার মতামতের ভিত্তিতে তা গ্রহণ বা ধারণ করা যেত।

‎আরেক প্রশ্নের জবাবে বিশেষ কমিটির সভাপতি বলেন, তাঁরা সংবিধান সংশোধনের কাজটি ঐক্যবদ্ধভাবে করতে চান। বিরোধী দলের প্রতি তাঁদের আহ্বান অব্যাহত থাকবে।

‎গণভোট প্রসঙ্গ

‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে একজন সাংবাদিক জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রসঙ্গে জানতে চান। জবাবে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গণভোটের অধ্যাদেশ এখনো আইনে রূপান্তরিত হয়নি। তবে তাঁরা গণভোটকে ধারণ করেন এবং জুলাই সনদকেও ধারণ করেন। সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর কিছু বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন হবে।

‎এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিষয় ছিল। আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা উঠিয়ে দেয়। অভ্যুত্থানের পর উচ্চ আদালত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন। এটি সংবিধানে আসবে।

‎সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদসহ কিছু জায়গায় কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে গণভোটে দিতে হবে। সংসদে বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সই করার আগে সেটি গণভোটে দিতে হবে।

‎তবে পুরো সংশোধনীর ওপর গণভোটের প্রয়োজন হবে না বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এবার প্রস্তাবনাসহ কিছু জায়গায় পরিবর্তন আসবে। তাই এসব বিষয়ে গণভোটে যাওয়ার কথা।

‎সভায় বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল আজিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান, বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি খাজা মাইন উদ্দিন এবং বর্তমান সভাপতি দৌলত আকতার মালাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

‎বিশেষ কমিটির সদস্যদের মধ্যে নূরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মাহমুদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

‎