২০২৫ সাল শেষে বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান বিনিময় হার ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। দেশের জনসংখ্যার হিসাবে মাথাপিছু বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৬৪৬ ডলার বা প্রায় ৮০ হাজার ৩৩০ টাকা।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্টে’ এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির সদর দপ্তর থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রায় তিন গুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। সে হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৪৬ ডলার। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ। বেসরকারি খাতের গ্যারান্টিবিহীন ঋণ ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ১৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।
সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া এ ঋণের পরিমাণ ৫১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে নেওয়া দ্বিপক্ষীয় ঋণ রয়েছে ৩২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের ঋণ ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ম্যানিলাভিত্তিক এডিবির কাছে ঋণের পরিমাণ ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। অন্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছে ঋণ রয়েছে ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।
দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের মধ্যে জাপানের কাছে বাংলাদেশের ঋণ সবচেয়ে বেশি, ১২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এরপর রাশিয়ার কাছে ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য দেশের কাছে ১০ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার দায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১২ অক্টোবর বিদেশি ঋণের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার বা ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এটি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বর্তমান বিনিময় হার ধরে টাকার অঙ্কে এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে মার্চ শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। ছয় মাস আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে তা ছিল ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। আর এক বছর আগে জুন শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ছয় মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।