রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নওগাঁয় ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক, অভিভাবকদের ক্ষোভ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নওগাঁয় ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক, অভিভাবকদের ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। তাঁরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক এর আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিদ্যালয়ে পাঠদান চলার সময় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করতে শোনা যায়।

অভিভাবক মিলন বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে এসে দেখি, আমার ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দিয়েছে; অথচ তার মাথায় চুল স্বাভাবিকই ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।’

আরেক অভিভাবক রকেট হোসেনের দাবি, প্রায় ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন রকেট হোসেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের চুল অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল; চোখের ওপর এসে পড়ায়, দেখতে খারাপ লাগছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’ তবে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। বর্তমানে একটি প্রশিক্ষণে থাকায় বিস্তারিত জানেন না। শিক্ষার্থীদের চুল এভাবে কেটে দেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর বদলগাছীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।