শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ট্রাম্পের শাসনকাল পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে সামরিক যুদ্ধ বজায় রাখার আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বা আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা নাকদি। দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের শাসনকাল পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে সামরিক যুদ্ধ বজায় রাখার আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বা আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা নাকদি।

দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।


ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সামরিক কর্মকর্তা বিদেশি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের সাম্প্রতিক গতিপথ ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেন। তার মতে, চলমান অস্থিরতা যত প্রলম্বিত হবে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তত বেশি কৌশলগত সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে বিগত কয়েক মাসে ইরান নতুন অনেক রণকৌশল আয়ত্ত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সংঘর্ষ বজায় রাখা কৌশলগত পরিকল্পনা কি না—এমন প্রশ্নের মুখে আইআরজিসি প্রতিনিধি জানান, তেহরানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন এক প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো রাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন চালানোর আগে এর ভয়াবহ ফল নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রতিপক্ষকে ধীরগতিতে দুর্বল ও ক্লান্ত করে ফেলার এই কৌশল অন্য যেকোনো পক্ষের জন্য একটি বড় বার্তা হতে পারে।

সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চরম ভুল করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়ানো তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে পড়বে। বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয় এবং এ জাতীয় আক্রমণ বিশ্ব সমাজ কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না বলে অভিমত দেন তিনি।

নিজের দেশের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রশ্ন তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দেন। তার ভাষ্যমতে, তেহরানের কোনো আণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই; বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানই তাদের আসল মূলধন।

এছাড়া মার্কিন রাজনীতিতে বহুল চর্চিত তেহরানের একটি বিশেষ স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বার্তা সাধারণ আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপকারী রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে। সামগ্রিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ইরান কেবল তাৎক্ষণিক লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান গ্রহণে বদ্ধপরিকর।