শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সহিংসতার শঙ্কায় রাজধানীতে জোরদার পাহারা, দুই শতাধিক স্থানে চলছে পুলিশের তল্লাশি

নাগরিকদের দৈনন্দিন সুরক্ষা বজায় রাখা ও যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ রুখতেই পুরো শহরকে এই বিশেষ সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে।

সহিংসতার শঙ্কায় রাজধানীতে জোরদার পাহারা, দুই শতাধিক স্থানে চলছে পুলিশের তল্লাশি
মহানগরীর রাজপথে এখন চোখে পড়ার মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সরব উপস্থিতি। চৌরাস্তা ও সংযোগ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিটি গাড়ি থামানো হচ্ছে। চালকদের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি কারও ভাবভঙ্গি সন্দেহজনক মনে হলেই পুরো যান ও যাত্রীদের মালপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুই চাকার বাহনগুলোর ক্ষেত্রে কাগজপত্র পরীক্ষার বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময়ের জন্য ট্রাফিকের গতি শ্লথ হলেও নিরীক্ষা শেষেই গাড়িগুলো গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক নিক্ষেপ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও শহরের প্রবেশমুখে এমন সতর্কতামূলক অবস্থান তৈরি হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা জুড়ে দুই শতাধিক অস্থায়ী নজরদারি কেন্দ্র স্থাপন করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

শুক্রবার শহরের অন্তত সাতটি এলাকায় একাধিক ককটেল ফাটানো এবং কাফরুল পুলিশ স্টেশনের সন্নিকটে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনার পর এই কড়াকড়ি শুরু হয়। মহাখালী, মালিবাগ, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী কিংবা বাবুবাজারের মতো ব্যস্ততম মোড়গুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি ফোর্স।

ডিএমপির গণসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানান, নাগরিকদের দৈনন্দিন সুরক্ষা বজায় রাখা ও যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ রুখতেই পুরো শহরকে এই বিশেষ সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই শতাধিক পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে সন্দেহভাজন যান, ফ্লাইওভার এবং প্রবেশদ্বারগুলোতে সার্বক্ষণিক চোখ রাখা হচ্ছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলগুলোর দিকে রয়েছে কড়া নজরদারি।

পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুমোদনহীন বাইক আটকানোর পাশাপাশি এসব বাহন ব্যবহার করে যেন কোনো ধরনের অপতৎপরতা না চালানো যায়, সেটিই এই তল্লাশির মূল লক্ষ্য। নির্দিষ্ট পয়েন্টে পাহারার পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে গাড়ির টহল, পদাতিক টহল এবং মোটরসাইকেল মহড়া একযোগে পরিচালনা করা হচ্ছে।

থানা পর্যায়ের বাহিনীর পাশাপাশি মহানগরীর সার্বিক শৃঙ্খলা অটুট রাখতে কাজ করছে গোয়েন্দা শাখা, বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা। নাশকতা প্রতিহত করতে একাধিক ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত এই বহরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে এই বলয় আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সামগ্রিকভাবে স্পর্শকাতর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কড়া নিয়ন্ত্রণ ও সতর্ক নজরদারির মধ্য দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে মহানগরের দৈনন্দিন যাতায়াত।