বুধবার, 4 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

গাজীপুরে বিক্ষোভের সময় আহত পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু, ছুটি অর্ধশতাধিক কারখানায়

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

গাজীপুরে বিক্ষোভের সময় আহত পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু, ছুটি অর্ধশতাধিক কারখানায়
ছবি: সংগৃহীত

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ এবং শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গাজীপুরের অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় গতকাল রাতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার কোনোটি এক দিনের জন্য, আবার কোনোটি দুই থেকে তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের তবিবুর রহমান তবি খানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

তৌফিকের স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি বাংলাবাজার এলাকায় থেকে পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন। গত সোমবার নোমান গ্রুপের টেরিটোরি গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকদের আন্দোলন চলার সময় হামলার ঘটনা মুঠোফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হন তৌফিক। পরে সহকর্মী শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের বক্তব্য, একটি কারখানা বন্ধ করতে বহিরাগত কয়েকজন সেখানে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় বহিরাগতদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। এতে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

ছুটির পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রত্যাশা

শ্রমিক অসন্তোষ ও শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে গাজীপুরের অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের জারি করা পৃথক নোটিশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার কটন ক্লাব (বিডি) লিমিটেড ও কটন ক্লাউড (বিডি) লিমিটেড যৌথভাবে দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির নোটিশে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্পে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ ও বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, কর্মক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা এবং সার্বিক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার কারখানা দুটি বন্ধ থাকবে। তবে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের কর্মীরা এ ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন।

অন্যদিকে, কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চন্দ্রা এলাকার লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। কারখানাটির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নোটিশে জানানো হয়েছে, আজ সব শিফটের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে সব শিফটের কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

এ ছাড়া গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার প্যানোরোমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, কাশিমপুরের মিতালী ক্লাব ও জকি গার্মেন্টস তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। কোনাবাড়ীর জরুন এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ দুই দিনের ছুটি দিয়েছে। একই সময়ের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে মনটেক্স ও ডিবিএলও।

কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এপেক্স হোল্ডিং লিমিটেড এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। একই এলাকার ইকোটেক্স লিমিটেড, কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট, সাদমা ফ্যাশন, হাইড্রোক্সাইড লিমিটেড ও ইন্টারস্টফসহ অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে কোনোটি এক দিনের জন্য, আবার কোনোটি দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লিজ ফ্যাশন কারখানার কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কারখানা দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শ্রমিকেরা টানা তিন দিন ছুটি পাবেন। এর মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধের খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে বিজিএমইএ কারখানা বন্ধ না রাখার ঘোষণা দিয়েছে বলেও তাঁরা জানতে পেরেছেন।