বুধবার, 4 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের আইনসভা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনও রয়েছে এই ভোটের আওতায়।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—রিপাবলিকানদের, নাকি ডেমোক্র্যাটদের। ফলের ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণও।

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের আইনসভা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনও রয়েছে এই ভোটের আওতায়।

কংগ্রেসের দুই কক্ষেই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা। প্রতিনিধি পরিষদে দলটির আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১২টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসনে নিট ব্যবধান বাড়াতে হবে। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই এবার নির্বাচন হচ্ছে। সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ভোট হচ্ছে ৩৫টিতে। ফলে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বদলাতে হলে ডেমোক্র্যাটদের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে জয় পেতে হবে। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই রিপাবলিকানদের প্রধান লক্ষ্য।

ভোটের আগেই আগাম ভোটের সংখ্যা এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের তথ্য বলছে, নির্বাচনের দিন আসার আগেই পাঁচ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট পড়েছিল প্রায় চার কোটি ৬০ লাখ। তবে আগাম ভোটের এই বাড়তি অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত কোনো দলকে সুবিধা দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে অর্থনৈতিক চাপ ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, অভিবাসন এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে দুই দলের প্রচারে ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় ও যুদ্ধের খরচ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা প্রশাসনের অর্জন এবং সামাজিক ইস্যুগুলো সামনে এনেছে।

প্রচারের শেষ সময় পর্যন্ত রিপাবলিকানদের পক্ষে মাঠে ছিলেন ট্রাম্প। দুই কক্ষেই দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে তার কর্মদক্ষতার প্রতি সমর্থন কমে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ভোটের আয়োজন নিয়েও শেষ মুহূর্তে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আসা কয়েক হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন ভোটের আগের দিন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে বিচার বিভাগের বড় পরিসরের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে কিছু ভোটকেন্দ্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। নিউইয়র্কের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে ভোটিং মেশিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কিছু ব্যালট বিকল্প ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ব্যালট নিরাপদ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হতে শুরু করবে। এরপর শুরু হবে ভোট গণনা। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে আগাম ও ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা করতে সময় লাগতে পারে। তাই সব আসনের ফল একসঙ্গে পাওয়া নাও যেতে পারে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতেই থাকুক, তার প্রভাব পড়বে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী দুই বছরের কর্মকাণ্ডে। প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আর দুই কক্ষেই রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে আইন প্রণয়ন ও বাজেটসংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বর্তমান সমীকরণ বজায় থাকবে।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স ও এপি