শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ‘সুপরিকল্পিত’ ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা লেবাননের

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ ও ভূখণ্ডজুড়ে তাণ্ডবের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। এই তাণ্ডবকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ‘সুপরিকল্পিত’ ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা লেবাননের

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ ও ভূখণ্ডজুড়ে তাণ্ডবের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। এই তাণ্ডবকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

একই দিনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এলাকাটির বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেন।


বৈরুত থেকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সালাম এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের বাসগৃহ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং নাগরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক আগ্রাসন ও অনুপ্রবেশ আন্তর্জাতিক ও মানবিক নিয়মনীতির চরম অবমাননা। পুরো অঞ্চলকে সামরিক আস্তানা বলে দাবি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এই অজুহাতে স্থানীয় অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে তাদের ঘরবাড়িতে ফেরার পথ বন্ধ করা সম্পূর্ণ অন্যায়।

অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবানন পরিদর্শনে গিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট জানান, তথাকথিত নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করতে তাদের সেনারা অবস্থান ধরে রাখবে। সেখানে থাকা মাটির নিচের অবকাঠামোর পাশাপাশি সব ধরনের স্থাপনা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান ও স্থল অভিযানে ইতোমধ্যে চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

পরবর্তীকালে জুন মাসের শেষভাগে উভয় পক্ষ একটি ত্রিপক্ষীয় রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই সমঝোতায় হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ, পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পরীক্ষামূলক এলাকাগুলোতে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের শর্ত রাখা হয়। কাটজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তি অনুযায়ী সব পক্ষের আচরণ করা উচিত এবং লেবাননের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো উদ্দেশ্য ইসরায়েলের নেই। তবে স্থায়ীভাবে সেনা উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চুক্তি সম্পাদনের পর সামগ্রিক সংঘাত অনেকাংশে হ্রাস পেলেও লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এবং সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ইসরায়েল এখনও বিস্ফোরক দিয়ে স্থাপনা উড়িয়ে দিচ্ছে। জাওতার আল-শারকিয়া নামক এলাকায় পৌর কার্যালয়, সরকারি বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিশু চিকিৎসালয়সহ বহু বাড়িঘর ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে লেবাননের সেনাপ্রধান রোদলফ হায়কাল এবং প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সফররত মার্কিন জেনারেল জোসেফ ক্লিয়ারফিল্ডের সাথে পৃথক বৈঠক করেছেন। তারা চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির পাশাপাশি ইসরায়েলি অভিযানের কারণে লেবানিজ বাহিনীর স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে তৈরি হওয়া নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন। আগামী মাসে রোমে দুই দেশের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় পরবর্তী ধাপের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।