যুদ্ধ ও সংঘাতের বাস্তবতায় শিশুদের সম্পৃক্ততার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরাও যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সহায়তামূলক কাজে অংশ নিতে পারবে।
সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসি-র তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ‘ফর ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় টহল, চেকপয়েন্ট ও লজিস্টিক সহায়তার মতো কাজে শিশুদের যুক্ত করা হচ্ছে।
নাদালির বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক কম বয়সি শিশুই স্বেচ্ছায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। ফলে এখন ১২ ও ১৩ বছর বয়সি কিশোররাও চাইলে এই কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা কাজে ব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে শিশুদের নিরাপত্তা বাহিনীর কাজে যুক্ত করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে মাহসা আমিনি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভে শিশুদের সামরিক পোশাকে নিরাপত্তা দায়িত্বে দেখা গেছে। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে চলমান বিভিন্ন আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দুই শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচও বিভিন্ন সময়ে শিশুদের আটক ও নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিশুদের কোনোভাবেই সামরিক কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তবে ইরানের এই নতুন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সেই অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় অধিকারকর্মীদের তথ্যমতে, দেশটিতে বর্তমানে ৩০ লাখের বেশি শিশু শ্রমিক রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল