সংসদকে অবহিত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী 'ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬' পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে সুসমন্বয় আনতে স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
বছরের শেষ চার মাস ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার প্রধান সময় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি সতর্ক করেন যে, এখনই প্রতিরোধ জোরদার না করলে আগামী তিন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান।
এই বিশাল কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশনগুলোর পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড এবং বিডি ক্লিনসহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত থাকবে। ঢাকার বাইরেও ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পুরসভা, ৬৪টি জেলা প্রশাসন এবং ৫০৩টি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই অনুরূপ অভিযান বাস্তবায়িত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশজুড়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারে বড় পরিসরে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো তাদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজ প্রতিদিন অব্যাহত রাখবে। সরকারি হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে তিন হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন।
ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলা ছাড়া বাকি প্রায় সব বিভাগেই ডেঙ্গুর প্রভাব উদ্বেগজনক। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ থাকায় সেসব জায়গায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
উদ্বেগজনক এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সামলাতে সরকারপ্রধান বাড়তি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান মীর শাহে আলম। এর অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় আলাদা শয্যা বরাদ্দ রাখা হবে। বর্তমানে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত পরীক্ষা কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। চিকিৎসা চলাকালে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে যেন নতুন করে মশা থেকে সংক্রমণ না ছড়ায়, সে বিষয়েও হাসপাতালেও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।