লক্ষ্মীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার মসজিদের সামনে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
একই সময়ে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর ব্যানারে মিছিল বের করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত শনিবার রাতে। শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এর প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা রোববার বিকাল ৫টায় চকবাজার মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে একই সময়ে এবং একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে জননিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা পৌর শহর এলাকায় বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেন। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই দুই পক্ষ রাজপথে নেমে এলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওসির বাইরে আহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এই বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম জানান, সেখানে ছাত্রদলের কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না, বরং ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর ব্যানারে প্রোগ্রাম ছিল। অন্যদিকে, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব শাহেদুর রহমান রাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ১৪৪ ধারা জারির পরও দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসায় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দাঙ্গায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।