সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‎২০২৮ সালের মধ্যে সব প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক থাকবে : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বাহ্যিক অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং উপযুক্ত কারিকুলাম, দক্ষ জনবল এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি বলে মনে করে সরকার।

‎২০২৮ সালের মধ্যে সব প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক থাকবে : ববি হাজ্জাজ
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বাহ্যিক অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং উপযুক্ত কারিকুলাম, দক্ষ জনবল এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি বলে মনে করে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে কোমলমতি শিশুদের কাছে আনন্দদায়ক করে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। শিক্ষাব্যবস্থার মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিক্ষার্থীরা নিজে, যেন পাঠ গ্রহণ তাদের কাছে কোনো মানসিক চাপ সৃষ্টি না করে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর মিলনায়তনে আয়োজিত প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ বিষয়ক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আইইউবি এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১২ মাসের মধ্যে দেশের শিক্ষাক্রম নতুনভাবে সাজানোর কাজ শেষ করতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদার উপায়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি না করে শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন আনা অসম্ভব। শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের অন্যতম পূর্বশর্ত।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান প্রক্রিয়া আরও ফলপ্রসূ করতে দুই শিফটের পরিবর্তে একক শিফট চালুর বিষয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই শিফটের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সময় পায় না। এই সমস্যা দূর করতেই পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়কে একক শিফটের আওতায় আনা হবে।

শিক্ষকদের দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৮ সালের পর থেকে দেশের কোনো প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষেই প্রশিক্ষণহীন কোনো শিক্ষককে পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই নিয়মটি সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও সমানভাবে কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিমের সঞ্চালনায় এই জাতীয় সংলাপে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি দিদার এ হোসেইনসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।