শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা: পাকিস্তান

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা: পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে শেহবাজ শরিফ জানান, দুই দেশের যুদ্ধ বন্ধে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই এই চুক্তির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের (ই-সিগনেচার) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এই প্রাথমিক প্রক্রিয়ার পর আগামী সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, “শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমরা অনেক বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পাবে। এরপর পাকিস্তান ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং পরবর্তী ধাপে আগামী সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিরা কারিগরি আলোচনায় বসবেন।” তিনি আরও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে।

এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় রাষ্ট্রই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা অত্যন্ত কাছাকাছি রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুই দেশই ইতিমধ্যে চুক্তির একটি খসড়া রূপরেখা দেখে পারস্পরিক সম্মতি জ্ঞাপন করেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তিটি সই হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। এর জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সময়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আক্রমণ শুরু করলে ইরান সমর্থিত এই দলটির সঙ্গে ইসরায়েলের নতুন করে সীমান্ত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধে উভয় পক্ষের হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি এই আঞ্চলিক সংকটের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তিচুক্তি বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।