নিউইয়র্কের সাধারণ ও শ্রমজীবী নাগরিকদের জন্য মাত্র ৫০ ডলারে বৈশ্বিক ফুটবল আসরের খেলা দেখার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।
স্বল্পমূল্যের এই টিকিটের পাশাপাশি খেলা দেখতে যাওয়ার জন্য দর্শকদের কোনো ভাড়া ছাড়াই বিশেষ বাস সেবা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আফ্রিকান ফুটবলপ্রেমীদের প্রধান মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত হারলেমের ‘লিটল সেনেগাল’ নামক স্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেয়র এই বিশেষ ঘোষণা দেন। এ সময় তার সাথে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ফুটবল তারকা টিমোথি উইয়াহ এবং মার্ক ম্যাকেঞ্জি।
নাগরিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ এখন আমাদের একদম কাছাকাছি। এই শহরের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো যেন এত বড় একটি আয়োজনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আয়োজক কমিটির সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এটি নিশ্চিত করেছি যে, এই উৎসবের অধিকার প্রধানত তাদেরই, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই শহর গড়ে উঠেছে। প্রাথমিকভাবে এক হাজার বাসিন্দা এই সাশ্রয়ী মূল্যে এবং বিনা ভাড়ার বাসে চড়ে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এমন একটি মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক পুরো বিশ্বের সামনে নজির স্থাপন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘোষিত এই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ওপরের গ্যালারিতে আসন বরাদ্দ করা হবে। ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠে অনুষ্ঠিতব্য সাতটি ম্যাচের প্রতিটিতে প্রায় দেড়শ জন করে সাধারণ মানুষ এই সুবিধা পাবেন। তবে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত বা ফাইনাল ম্যাচটিকে।
যেসব ম্যাচের জন্য এই টিকিটের সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তার মধ্যে প্রথম পর্বে ১৩ জুনের ব্রাজিল বনাম মরক্কো, ১৬ জুনের ফ্রান্স বনাম সেনেগাল, ২২ জুনের নরওয়ে বনাম সেনেগাল, ২৫ জুনের ইকুয়েডর বনাম জার্মানি এবং ২৭ জুনের পানামা বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াইগুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ৩০ জুনের নকআউট পর্বের রাউন্ড অব ৩২ এবং ৫ জুলাইয়ের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ দুটির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
এই টিকিটগুলো পাওয়ার জন্য ২৫ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে, যেখানে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ব্যক্তি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। লটারিতে নাম আসা ভাগ্যবানেরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন, যা কোনোভাবেই অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না এবং খেলার দিনই তা সরাসরি বিজয়ীদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
মেয়রের কার্যালয় এবং নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি হোস্ট কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ আয়োজনটি করা হচ্ছে, যার সাথে ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এর আগে কাতার বিশ্বকাপের সময় স্বাগতিক দেশের নাগরিকদের জন্য মূল্যে ছাড়ের ব্যবস্থা থাকলেও, এবারের বিশ্বমঞ্চের আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে কেবল নিউইয়র্কই প্রথম নিজস্ব বাসিন্দাদের জন্য এমন বিশেষ কোটার ব্যবস্থা করল।
আসন্ন এই ফুটবল উৎসবকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলে যাতায়াত এবং খেলা দেখার মাত্রাতিরিক্ত খরচ নিয়ে আগে থেকেই সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ছিল। স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ পেন স্টেশন থেকে স্টেডিয়ামের যাতায়াত ভাড়া সাধারণ সময়ের ১৩ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রথমে ১৫০ ডলার নির্ধারণ করেছিল, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ১০৫ ডলারে নামানো হয়। এছাড়া বাসের যাতায়াত খরচ ধরা হয়েছে ৮০ ডলার।
অন্যদিকে ফিফা তাদের মোট টিকিটের মাত্র সামান্য অংশ অর্থাৎ ১.৬ শতাংশ টিকিট ৬০ ডলারে ছাড়লেও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাজার নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে বাকি সাধারণ টিকিটের মূল্য এখন সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।
এই চড়া বাজারমূল্যের সমালোচনা করে মেয়র পূর্বেই এক বক্তব্যে বলেছিলেন, যারা এই খেলাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাদের স্টেডিয়ামে যাওয়ার সুযোগ হয় না। চড়া দামে যারা সবার আগে টিকিট কিনে নেন, তারা প্রায়শই খেলা দেখার চেয়ে বাণিজ্যিক মুনাফা লাভের দিকে বেশি মগ্ন থাকেন।