নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করার মাত্র ৬ মাসের মাথায় সড়কটি খানাখন্দে ভরে গিয়ে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন, আর অহরহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের নয়ামাটি, ভাঙতি ব্রিজ, লক্ষণখোলা, নবীগঞ্জ ও আকিজ সিমেন্ট কারখানার সামনের অংশগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। কোথাও বিশাল গর্তে ট্রাকের চাকা আটকে যাচ্ছে, আবার কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর অপর্যাপ্ত আলোর কারণে গর্তগুলো দেখা যায় না, ফলে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক উল্টে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শেষদিকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কের প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ শেষ হয়। ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু চালুর পর সড়কটির গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় ৫.৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৭.৩ মিটার প্রশস্ত করা হয়েছিল। তবে সংস্কারের কয়েক মাস যেতে না যেতেই সড়কের কঙ্কালসার দশা বেরিয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ব্যাপক অনিয়মের কারণেই সড়কটি টেকসই হয়নি।
সওজ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, সড়কটি মূলত ভারী লরি বা ওভারলোডেড ট্রাকের জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি বলেন, “সিমেন্ট কারখানার অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। আমরা অভিযান চালালেও পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়।”
অন্যদিকে, শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক মনির উদ্দিন আহমেদ স্বীকার করেছেন যে অতিরিক্ত ওজনের কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিকল্প পথ না থাকায় আমরা নিরুপায় হয়ে এই পথ ব্যবহার করছি। তবে পঞ্চবটি-মোড়কাতপুর সড়কের কাজ শেষ হলে ভারী যান চলাচল বন্ধ হবে।”
স্থানীয় অটোরিকশা চালক ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের প্রতিবাদে একাধিকবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দীন জানান, গত এক বছরে এই সড়কে অন্তত বিশটিরও বেশি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সওজ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে মেরামতের জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, জোড়াতালি দিয়ে গর্ত ভরাট না করে ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।