গান দিয়ে যাঁকে চিনেছে বাঙালি, সময়ের সঙ্গে তিনি হয়ে উঠেছেন অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক—এক কথায় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক এক নাম অঞ্জন দত্ত। দীর্ঘ জীবনে নানা সময়ের গল্প তিনি কখনো বলেছেন, কখনো লিখেছেন, কখনো আবার উঠে এসেছে অন্যের লেখায়। তবে এবার প্রথমবারের মতো নিজের জীবনের পুরো গল্প নিজ হাতে গুছিয়ে তুলে ধরলেন এই শিল্পী।
গত ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে অঞ্জন দত্তের আত্মজীবনী ‘অঞ্জন নিয়ে’। বইটি প্রকাশ করেছে দে’জ প্রকাশনী।
আগামী ১৯ জানুয়ারি অঞ্জন দত্তের জন্মদিন। সেদিন তিনি ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা দেবেন। জন্মদিনকে সামনে রেখেই নিজের জীবনের এই বিশেষ দলিল পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বই প্রকাশ উপলক্ষে ১৫ জানুয়ারি কলকাতার পার্কস্ট্রিটের অক্সফোর্ড বুক স্টোরে আয়োজন করা হয় ‘বাহাত্তুরে অঞ্জন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন। তাঁর হাতেই বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন হয়।
কেন এই বয়সে আত্মজীবনী
নিজের লেখা নিয়ে অঞ্জন দত্ত বলেন,
‘কয়েক দিন পর ৭২ বছর শেষে ৭৩-এ পড়ব। এই বয়সে আত্মজীবনী লেখার কথা মনে হয়েছে। কারণ, পরে হলে হয়তো আর পারব না। তখন হয়তো খুব সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়ব, আমার সেন্স অব হিউমার কমে যাবে, বেশি কথা বলে ফেলব। তাই মনে হয়েছে, এটাই উপযুক্ত সময়।’
তিনি আরও বলেন,
‘স্মৃতিকথা লিখতে হলে সত্যি কথাই লিখতে হয়। আমি সেই সত্যি কথাগুলোই লিখেছি।’
অজানা অঞ্জনের গল্প
এই আত্মজীবনীতে অঞ্জন দত্ত তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়, সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার কথা। কলকাতার বহু বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের গল্প বইটিতে বিশেষ জায়গা পেয়েছে।
অঞ্জন জানান,
‘মৃণাল সেনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা লোকে জানে। কিন্তু অনেকেই জানে না, সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গেও আমার একটা অদ্ভুত, মজার সম্পর্ক ছিল।’
বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরে তাঁর জীবনের অজানা দিকও উঠে এসেছে এই বইয়ে। জার্মানিতে চাকরির অভিজ্ঞতা, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিত হওয়া বিখ্যাত মানুষদের গল্প—সব মিলিয়ে আত্মজীবনীটি হয়ে উঠেছে সময়, স্মৃতি ও আত্মঅন্বেষণের এক অনন্য দলিল।
অঞ্জন দত্ত বলেন,
‘এই সব কথা জানতে পারলে মানুষ আমাকে হয়তো আরও একটু ভালোভাবে চিনতে পারবে। আমার শেষ বয়সে সেই পরিচয়টাই রেখে গেলাম। আমার মনে হয়, আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের ভালো লাগবে।’