শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে তদন্তে নেমেছে পদ্মা অয়েল

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপো পর্যন্ত যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি হওয়ার অভিযোগে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি তদন্ত দল মাঠে নেমেছে।

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে তদন্তে নেমেছে পদ্মা অয়েল

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপো পর্যন্ত যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি হওয়ার অভিযোগে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি তদন্ত দল মাঠে নেমেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে তারা কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম।

দলটি ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে তেলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ যাচাই করা হয়। ডিপোয় থাকা জেট ফুয়েলের পরিমাণও তদারকি করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপচারিতাও করেন।

সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো কাগজে-কলমে কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তা পৌঁছেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপ মহাব্যবস্থাপক মো. শফিউল আজম এসিএ বলেন, “নিউজের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও চলমান রয়েছে। আমরা সব তথ্য মিলিয়ে যাচাই করছি।”

তদন্তে জানা যায়, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমান জ্বালানিতে ব্যবহৃত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত কমমূল্য হওয়ায় দুর্বৃত্তরা এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করে। খোঁজে জানা যায়, ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ৪টি গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়ি নম্বরগুলো হলো ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। কাগজে-কলমে এগুলো ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে।

পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে পুরনো একটি সিন্ডিকেট একই কাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করলেও অভিযোগে প্রভাব পড়েনি।

সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল, তবে তা সময়মতো দেওয়া যায়নি। পরে ৮ মার্চ পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করা হয় এবং অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।