শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত

বিশাল রানের জবাবে শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের আক্রমণের মুখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানরা।

আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত
অভিষেক শর্মার তাণ্ডবময় শতকের পর ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে সফরকারী আফগানিস্তান। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ১২৭ রানের বিশাল জয়ের মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের লড়াইয়ে সফরকারীদের ৩-০ ব্যবধানে বাংলাওয়াশের লজ্জায় ডুবিয়েছে স্বাগতিক দল।

নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কয়েন ভাগ্যে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২২১ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। জবাবে জয়ের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৪ দশমিক ১ ওভারেই ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস।

ভারতীয় ইনিংসের মূল কাণ্ডারি ছিলেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। প্রথম থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ১৬ বলেই নিজের অর্ধশতক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ইনিংস আরও বাড়িয়ে পরবর্তী পঞ্চাশ রান তুলতে মাত্র ১৪ বল খরচ করেন। দশটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে মাত্র ৩০ বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান এই বাঁহাতি।

মাত্র ৩০ বলের এই ঝড়ো সেঞ্চুরির সুবাদে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দেশগুলোর ক্রিকেটারদের তালিকায় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম শতকের নজির স্থাপন করেন তিনি। পাশাপাশি সার্বিক বিচারে এটি ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৩৪ বলে নয়টি বাউন্ডারি ও এগারোটি ছক্কায় ১০৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন অভিষেক।

উদ্বোধনী জুটিতে অভিষেকের যোগ্য সঙ্গী ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। প্রথম উইকেটে তারা স্কোরবোর্ডে ১৪২ রান যোগ করেন। যার সুবাদে প্রাথমিক ছয় ওভারে একশ রান তোলে ভারত, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ষষ্ঠ দ্রুততম পাওয়ারপ্লে সেঞ্চুরির দৃষ্টান্ত। স্যামসন নিজে ৩৫ বল খেলে ঠিক পঞ্চাশ রান করেন।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর স্বাগতিকদের রানের গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়ে। মিডল অর্ডারে শ্রেয়াস আইয়ার ২০ বল থেকে ২৯, শিবম দুবে ১০ বলে ১৪ এবং ইশান কিষান ৮ বল খেলে ১০ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ২২১ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।

বিশাল রানের জবাবে শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের আক্রমণের মুখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানরা। দলের হয়ে অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান ১৬ বলে ২৫ এবং অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১৩ বলে ১৭ রানের প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। ১৪ ওভার পার হতেই মাত্র ৯৪ রানে শেষ হয় তাদের সবকটি উইকেট।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে নীতিশ কুমার রেড্ডি ২৫ রানের বিনিময়ে তিনটি এবং রবি বিষ্ণোই ২৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল শিকার করেন দুইটি উইকেট।

১২৭ রানের এই ব্যবধানের হারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আফগানিস্তানের সবচেয়ে শোচনীয় পরাজয়। সেই সাথে ভারতের বিরুদ্ধে ৯৪ রান এখন এই ফরম্যাটে আফগানদের সর্বনিম্ন দলীয় রানের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড।