শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মালয়েশিয়া ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ নতুন জনশক্তি নিয়োগ করতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশের নিবন্ধিত বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মালয়েশিয়া ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ নতুন জনশক্তি নিয়োগ করতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশের নিবন্ধিত বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং হালাল খাদ্য উৎপাদন শিল্পে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।


রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহদা বিন ওসমানের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকেদের সামনে আলোচনার এসব মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। নির্ধারিত দুই লাখ শ্রমিকের মধ্যে ১০ হাজার কর্মীকে কোনো প্রকার ব্যয় ছাড়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার সুযোগ দেবে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হতে যাওয়া এই জনশক্তি প্রেরণ কার্যক্রম আগামী ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কুয়ালালামপুর সফরের সুফল বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত কর্মীর পাশাপাশি অনিবন্ধিত কর্মীদের আইনি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের তাগিদ দেওয়া হয়। শিক্ষা বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি তরুণ যেমন মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, তেমনি সেখানকার প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী বাংলাদেশের স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজগুলোতে অধ্যয়ন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিষয়টি নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নীতির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা শহরের প্রধান রাজপথগুলোতে ই-রিকশা চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। শহরটিকে মোট ৮টি জোনে বিন্যস্ত করে কেবল ভেতরের সংযোগ বা অভ্যন্তরীণ পথগুলোতে সর্বোচ্চ দুই ও চার আসন বিশিষ্ট অনুমোদিত বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে।

ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো যানবাহন সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধনের আওতাভুক্ত করা হবে না এবং এ ধরনের যান কেবল জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় চলাচলের ছাড়পত্র পাবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফাইড ডিজাইন মেনে নির্মিত যানবাহনগুলোকেই কেবল আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হবে।

প্রস্তাবিত এই নীতিমালা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ামাত্রই খুব দ্রুত তা জারি ও কার্যকর করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন মীর শাহে আলম।

এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার আধুনিক অবকাঠামো প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়া সত্ত্বেও সে দেশের রাস্তাঘাটের স্থায়ী টেকসই মান বজায় রাখতে বিটুমিনের সাথে 'রাবার কার্পেটিং' বা পলিমার মডিফাই বিটুমিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশেও এই বিশেষ রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সার্বিক সম্মতি প্রদান করেছে কুয়ালালামপুর।