আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তেহরান আর বেশিদিন লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে; যেখানে জানানো হয়, হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টারা এক গোপন বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের শেষ দুই বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর গভর্নিং বোর্ড পারমাণবিক চুক্তিভঙ্গের কারণে ইরান সংক্রান্ত বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবের পক্ষে ২৩টি ভোট পড়লেও রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তবে সংস্থাটিতে নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি এই উদ্যোগকে আমেরিকার রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিরিয়ায় সামরিক বাহিনী পরিদর্শনের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার পর থেকে উভয়পক্ষের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজে আঘাতের কোনো চেষ্টা করা হলে ইরানকে আরও জাহাজ হারিয়ে চরম মূল্য দিতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের মুখে পড়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী হরমুজের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে তোলে। এর পর থেকেই ওই বাণিজ্যিক রুট দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের গতি থমকে গেছে এবং সাধারণ বাণিজ্যিক নৌযান পারাপারের ওপর বিশেষ ফি ও পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করেছে তেহরান।
সূত্র: এনডিটিভি