আঞ্চলিক সামরিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় ইরানের সাথে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রগুলোতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সাথে সব ধরনের পণ্য বিনিময়, ব্যবসায়িক চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশটি।
আমিরাতের পররাষ্ট্র দফতর থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানের এই পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই বিঘ্নিত করছে না, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতিও গুরুতর সংকট তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, আবুধাবির এই সিদ্ধান্ত তেহরানের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ ইরানের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক ট্রানজেকশনের মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছিল আমিরাত।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রাক্তন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে দেওয়া আর্থিক নিষেধাজ্ঞার চেয়েও আমিরাতের এই উদ্যোগ ইরানের জন্য বেশি ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেল সচল রাখতে দুবাইয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত কৌশলগত।
আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি অর্থনীতির জন্য দুবাইয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। চীন ও তুরস্কের পাশাপাশি ইরানে আবশ্যকীয় সামগ্রী আমদানির সবচেয়ে বড় রুটগুলোর একটি হলো আমিরাত। বহু বছর ধরেই ইরানের সার্বিক আমদানিকৃত পণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। একই সাথে আন্তর্জাতিক নানা বিধিনিষেধ এড়িয়ে আর্থিক লেনদেন বজায় রাখতে বাণিজ্যিক হাব হিসেবে দুবাইকে ব্যবহার করে আসছিল তেহরান।
কিমিটের ভাষ্যমতে, আমিরাতের নেওয়া এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ তেহরানের নীতিনির্ধারকদের কাছে অত্যন্ত জোরালো এক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এটি ইরান সরকার বা সামরিক বাহিনীর কাছে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের ঐতিহাসিক উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দেন।
অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান যে নিকটবর্তী অপরাপর দেশগুলো আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আমিরাত ও ইরানের মধ্যকার এই অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির ওপরই মূলত তাদের পরবর্তী অবস্থান নির্ধারিত হবে।