শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মাস্কাটে ইরানের প্রস্তাবিত বৈঠক প্রত্যাখ্যান বাহরাইনের

হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের নির্বিঘ্ন করতে তেহরানের আহ্বানে আয়োজিত আঞ্চলিক বৈঠকে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাহরাইন। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সোমবার ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির কার্যকারিতা স্থবির হয়ে পড়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই অচলাবস্থার মাঝেই জলপথটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং সংকট সমাধানের লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয় তেহরান, যাকে তারা নিজেদের ইতিবাচক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে। তবে বাহরাইনের পররাষ্ট্র দপ্তর এক ঘোষণায় স্পষ্ট করেছে যে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রচারণার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তারা এই সংলাপে শরিক হবে না। উপসাগরীয় অবকাঠামো সমূহে ধারাবাহিক আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করে মানামা জানায়, কোনো প্রকার নমনীয় তোষণনীতির আশ্রয় নিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা কিংবা স্থায়ী নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব নয়। সেই সাথে কোনো ধরনের আর্থিক মাশুল, বৈষম্য বা পূর্বানুমতির শর্ত ছাড়াই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, তেহরান এই নৌপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নির্দিষ্ট ফি ধার্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। হরমুজের একটি অংশ ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ বিষয়ে মাস্কাটের সাথেও নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে ইরান। এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত সব দেশের জলযান প্রণালিটি দিয়ে বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারত। বাহরাইন প্রশাসনের ভাষ্য, তারা যেকোনো গঠনমূলক আলোচনার পক্ষে থাকলেও তেহরানের সাথে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক বন্ধন পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশটির সাথে একই টেবিলে কোনো যৌথ আলোচনায় অংশ নেবে না। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক মেরুকরণের জেরে ২০১৬ সালে রিয়াদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাহরাইনও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল; পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সৌদি আরব সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলেও বাহরাইন এখনও সেই পথে হাঁটেনি।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, এই প্রস্তাবিত বৈঠকটি প্রতিবেশীদের প্রতি ইরানের ইতিবাচক মানসিকতার বড় প্রমাণ। তার মতে, যেকোনো বহিঃশক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বা সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। অতীতে প্রতিবেশীদের ভূমি বা সেখানে বিদ্যমান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও তেহরান সংলাপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে হরমুজে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের পূর্বে হওয়া পর্যালোচনার ফলাফল বৈঠকে আসা অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি। তবে আন্তর্জাতিক এক বার্তা সংস্থাকে উদ্ধৃত করে এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাস্কাটের এই সমাবেশ বিভিন্ন বিষয়ে ভাববিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা কম। এর পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ বার্তা সংস্থা তাসনিমেও ওমানের সঙ্গে চলমান যৌথ সমঝোতার প্রক্রিয়াটির বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স