দেশজুড়ে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশা পরিচালনা ও সার্বিক চলাচল সুসংহত করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ করছে সরকার।
আজ রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
উক্ত নীতি নির্ধারণী সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা ইলেকট্রিক রিকশার শৃঙ্খলা রক্ষা, নিবন্ধন প্রদান, কারিগরি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নানা বাস্তবমুখী প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। পূর্ববর্তী সভাবাসমূহে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি নগরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা, যানবাহনের ফিটনেস অনুমোদন, চার্জিং স্টেশন ও গ্যারেজ পরিচালনা এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
নগরবাসীর ভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এই রূপরেখা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে শহরের যানজট নিরসন, সড়কে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও সামগ্রিক পথ-নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার কাঠামোর মাধ্যমে বৈধ সনদ ও নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে এই খাতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা যেমন ফিরবে, তেমনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জমা হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান ই-রিকশাগুলোর শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।
ই-রিকশা পরিচালনা বিধিমালার চূড়ান্ত খসড়াটি জরুরি ভিত্তিতে ভেটিং ও আইনগত মূল্যায়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করা হবে বলে মন্ত্রী নিশ্চয়তা দেন।
সুনির্দিষ্ট কারিগরি মতামতের জন্য সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এহসান এবং পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান।
অন্যান্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি নির্ধারণী আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদ্বয় এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।