শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

আদালতে এআইয়ের মাধ্যমে রায় লেখা অনুচিত ও অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি

বিচারিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রায় প্রস্তুত করা স্পষ্টতই অনুচিত ও নৈতিকতাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও এটি নিশ্চিতভাবেই অনভিপ্রেত ও অনৈতিক কাজ।

আদালতে এআইয়ের মাধ্যমে রায় লেখা অনুচিত ও অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি

বিচারিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রায় প্রস্তুত করা স্পষ্টতই অনুচিত ও নৈতিকতাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

তিনি স্পষ্ট করেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও এটি নিশ্চিতভাবেই অনভিপ্রেত ও অনৈতিক কাজ।


রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল-২০২৬’-এর সূচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন।

রায় প্রণয়নের মূল উপাদানগুলোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের সমন্বয় ঘটানো আবশ্যিক—ঘটনার সঠিক বিবরণ, বিদ্যমান আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং বিচারকের ব্যক্তিগত প্রজ্ঞা ও বিবেক। এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রথম দুটি উপাদান হয়তো বিশ্লেষণ করা সম্ভব, তবে বিচারকের নিজস্ব চিন্তাশক্তি বা বিবেকের ওপর এর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকা সম্ভব নয়।

মানুষের স্বতন্ত্র বুদ্ধিমত্তা ও বিবেচনাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, চিন্তাশক্তি ও প্রজ্ঞার সঠিক বিকাশ না ঘটলে মানুষের অবস্থান ক্ষুণ্ন হয়। একজন বিচারককে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের মেধা ও আইনগত ধারণার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রযুক্তির অন্ধ ব্যবহারের ঝুঁকি বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি মামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে এআই ব্যবহার করে লেখা রায়ে এমন কিছু পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছিল, বাস্তবে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এই ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে সবাইকে অত্যন্ত সচেতন থাকার তাগিদ দেন তিনি।

একই সাথে বিজ্ঞানের এই আধুনিক আবিষ্কারকে ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজে প্রয়োগের জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ একরামুল হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনোভা শেলী বক্তব্য প্রদান করেন।