শুক্রবার বৈকালে কুমিল্লা টাউন হলে আয়োজিত বিকল্প ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়ক ও কোটবাড়ি এএইচকে স্যাটেলাইট সিটির রূপরেখা উপস্থাপন সংক্রান্ত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম বড় কারণ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি উত্তরণে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং মজুত জোরদারের পাশাপাশি ভোলার গ্যাস কিভাবে দ্রুত মূল ভূখণ্ডে আনা যায়, সে বিষয়ে মধ্যমেয়াদি নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সাধারণ মানুষ এর সুফল দেখতে পাবে এবং এ নিয়ে শীর্ষ পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতির দরুন জ্বালানির দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। যা একদিকে জাতীয় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত গ্যাস প্রাপ্তিও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং অগণিত শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দেশের সার্বিক উন্নয়নকে পরিকল্পিত ও গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
উক্ত সেমিনারে মূল ধারণাপত্র পেশ করেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বিদ্যমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর যানজটের চাপ কমাতে একটি বিকল্প সংযোগ সড়কের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জানান যে, এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, কুমিল্লা ওয়াসের প্রধান ও স্থানীয় দলীয় প্রতিনিধি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং আমিরুজ্জামান আমির বিশেষ অতিথি হিসেবে নিজেদের বক্তব্য প্রদান করেন।