ছাত্র বিক্ষোভ ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে শিক্ষাকাঠামোর এক অপরিহার্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
তাঁর মতে, শিক্ষা সংক্রান্ত কিংবা শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক যেকোনো গণআন্দোলন পাঠ্যক্রমিক শিক্ষার বাইরেও একজন মানুষকে গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে, তাই এটিকে কোনোভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার অবকাশ নেই।
শুক্রবার সকালে ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ৫ম বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও প্রদেয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে যুক্তিচর্চা ও মানবিক বোধের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতাই মানবের মূল পরিচয় ফুটিয়ে তোলে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর তাগিদ এবং সংবেদনশীল মানসিকতা আছে বলেই মানুষ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, গণমানুষকে সংগঠিত করে এবং প্রয়োজনবোধে জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের বর্তমান ভৌত অবকাঠামোগত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জোনায়েদ সাকি প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যাপীঠের বাহ্যিক কোনো বড় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। তাই কলেজের সার্বিক জমি ও চত্বর ব্যবহার করে একটি সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং সেই অনুযায়ী সার্বিক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে উদীয়মান তরুণদের অবিস্মরণীয় অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ দেশে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস বিনির্মাণ করেছে। আন্দোলনের সেই নির্মম স্মৃতি ও আঘাত সহ্য করে এখনও অগণিত তরুণ শারীরিক যন্ত্রনা ভোগ করছেন, যাদের অনেকেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কিংবা চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হয়েছেন।