শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সারাদেশে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি শুরু আজ

প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি কলেরা নিয়ন্ত্রণে দেশের নির্দিষ্ট উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে ওরাল কলেরা টিকাদান কার্যক্রম।

সারাদেশে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি শুরু আজ

প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি কলেরা নিয়ন্ত্রণে দেশের নির্দিষ্ট উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে ওরাল কলেরা টিকাদান কার্যক্রম।

নির্ধারিত ১৪টি উপজেলা ও থানা কেন্দ্রিক প্রথম ধাপের এই উদ্যোগ চলবে সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত। পরবর্তীতে পরিপূরক হিসেবে দ্বিতীয় ডোজটি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শেষ ভাগ পর্যন্ত প্রদান করা হবে। পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ব্যবধানে উভয় ডোজ গ্রহণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


অন্তর্বর্তীকালীন এই বিশাল গণ-কর্মসূচিতে এক বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো ব্যক্তি বিনামূল্যে ওরাল ভ্যাকসিন গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার খাতিরে গর্ভবতী নারীদের আপাতত এই টিকাদানের বাইরে রাখা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে টিকা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মোট ৫১ লক্ষাধিক মানুষকে টিকাদানের আওতায় আনার সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী এবং কামরাঙ্গীরচর এলাকার ওয়ার্ডগুলোতে গঠিত বুথ থেকে পৌনে ১২ লক্ষাধিক বাসিন্দাকে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁওসহ মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকাও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অন্তর্ভুক্ত।

কার্যক্রমের শুভসূচনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিহাস জুড়ে কলেরা মহামারি ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনলেও আধুনিক চিকিৎসার ফলে পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটেছে। তবে আকস্মিক ঝুঁকি এড়াতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই টিকাদান অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি অন্যান্য জাতীয় প্রতিষেধক কর্মসূচির মতোই সর্বস্তরের নাগরিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এটি সফল করার আহ্বান জানানো হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরাও জনবহুল এলাকাগুলোতে তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই লক্ষ্য পূরণে দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ থেকে আত্মরক্ষায় ওরাল ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে, যা রোগের মারাত্মক তীব্রতা কমায়। তবে প্রতিষেধক গ্রহণের পাশাপাশি পানীয় জলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা, খাদ্যের সঠিক সংরক্ষণ এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।