দেশে পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে নিযুক্ত ডিলারদের আত্মগোপনে চলে যাওয়া এবং সময়মতো সার সংগ্রহ ও সরবরাহ না করাকেই এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন তিনি।
সোমবার রাতে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজনে বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর এলাকার ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত বেসরকারি এতিমখানা ও সমাজকল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মাঝে সরকারি আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত প্রায় পৌনে দুই দশকে জাতীয় অর্থনীতিকে এক চরম ভঙ্গুর দশায় ফেলে যাওয়া হয়েছে, যা মেরামত করতে বর্তমান সরকারকে ব্যাপক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে সরকার নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের সহায়তায় সরকারের গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষকদের সুরক্ষায় বিশেষ কার্ডসহ পারিবারিক কার্ড বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে অন্যের দয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকার বন্দোবস্ত থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। কেউ বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে দেশ সচল থাকবে আর সরবরাহ বন্ধ করে দিলে পুরো দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে, এমন পরনির্ভরশীল বাস্তবতা কাম্য নয়।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সাময়িক সংকটে জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি যোগ করেন, এই সমস্যার স্থায়ী নিরসনে রাষ্ট্র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও মতামত তুলে ধরেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ, জেলা বিএনপির নেতা আইনজীবী আব্দুল কাদের মিয়া, স্থানীয় থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মোল্লা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিম।