তেল আবিবের ওপর হামাসের আকস্মিক সামরিক অভিযানের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেন যে, অস্ত্রবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দেওয়ার পাশাপাশি বিপর্যস্ত ভূখণ্ডটিতে বড় পরিসরে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের সবচেয়ে দাবি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক আইনি অনুশাসন সমুন্নত রেখে গোটা অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমাধানের ওপর তিনি জোর দেন। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, এই দিনটি যেন কেবল শোক প্রকাশের পুনরাবৃত্তিতে রূপ না নিয়ে সংঘাতমুক্ত এক নতুন ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে, যেখানে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা নিয়ে পাশাপাশি সহাবস্থান করতে পারবে দুই পক্ষই।
আলোচনাকালে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হওয়া প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে জাতিসংঘ প্রধান সেই অভিযানকে অত্যন্ত প্রাণঘাতী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সেই ঘটনায় বারো শতাধিক দেশি-বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারান এবং আড়াই শতাধিক মানুষকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সমান্তরালে গাজার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর নেমে আসা চরম বিপর্যয়, সীমাহীন প্রাণহানি এবং ভিটেমাটি হারানোর মতো মানবিক দুর্দশার অবিলম্বে পরিসমাপ্তি ঘটার প্রয়োজনীয়তাও ব্যক্ত করেন তিনি।
উপত্যকার স্বাস্থ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘকালীন সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত চুয়াত্তর হাজার দুই শতাধিক ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এই স্বাস্থ্য দপ্তরের সরবরাহ করা তথ্যকে বাস্তবসম্মত বলেই গণ্য করে থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী বছরের শেষভাগে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া সংক্ষিপ্ত সময়ের সামরিক বিরতি সাধারণ নাগরিকদের কিছুটা স্বস্তি জোগালেও তা কার্যকর নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ কিংবা টেকসই শান্তি নিশ্চিতের পথ প্রশস্ত করতে পারেনি। এদিকে গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তেল আবিব প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামাসের পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।