তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজ রোববার দুপুরে বাসস কার্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মচারীদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে নতুন প্রধান সম্পাদক জানান, বার্তা সংস্থাটিতে একটি অত্যন্ত দক্ষ ও মেধা সম্পন্ন কর্মীবাহিনী রয়েছে। সত্য, সততা ও পেশাদারিকে মূল ভিত্তি ধরে কাজ সম্পাদন করতে পারলে কেবল দেশে নয়, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও এই সংস্থা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে। বাসসের মানকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার কোনো বিকল্প নেই বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
সংবাদের নিরপেক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, সংবাদ পরিবেশন মানে সত্যের সন্ধান করা, যেখানে সঠিককে সঠিক এবং ভুলকে ভুল বলার সাহস থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বাইরে কেবল সাধারণ জনগণের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো বাসস পরিবার একসাথে কাজ করে যাবে।
অফিসের পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি জানান, নিজেদের ভেতরের পদ মর্যাদার ব্যবধান ভুলে গিয়ে মাঠের কর্মী হিসেবে সবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। এখানে ব্যক্তিকেন্দ্রীক প্রশংসা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের স্থান থাকবে না; বরং সবাইকে সাথে নিয়ে একটি পেশাদার ও ঐক্যবদ্ধ পরিবার গড়ে তোলা হবে।
আলোচনা পর্বে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, অতীতের দিনগুলোতে বাসস অত্যন্ত প্রভাবশালী ও মানসম্পন্ন এক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হতো, যেখান থেকে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বনেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হতো। পুরনো সেই গৌরবময় ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সবাইকে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করেন তিনি।
এর পূর্বে সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের যোগদানপত্র পেশ করেন নবনিযুক্ত এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
পরবর্তীতে দুপুরে তিনি নিজ কার্যালয়ে পদার্পণ করলে বাসসের সাংবাদিক ও কর্মচারী ইউনিয়নসহ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বাসসের সিটি এডিটর মুরসালিন নোমানীর পরিচালনায় উক্ত সভায় ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এবং বাসসের বার্তা ও প্রশাসনিক বিভাগের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।