শুক্রবার, 25 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হারানো পাসপোর্ট দ্বিতীয়বার পুনঃইস্যুতে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রথমবারের মতো কোনো নাগরিকের পাসপোর্ট হারালে বা নষ্ট হলে নিয়মিত ফি দিয়েই নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে দ্বিতীয়বার কিংবা এর পরবর্তী প্রতিবারে একই কারণে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে গেলে নির্ধারিত ফির সাথে বাড়তি ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ বা দণ্ড ফি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।

হারানো পাসপোর্ট দ্বিতীয়বার পুনঃইস্যুতে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা
অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পাসপোর্ট খোয়া গেলে, চুরি হলে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনরায় পাওয়ার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নিয়মে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অনলাইনে দ্রুত অবহিতকরণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি বারবার একই ঘটনা ঘটলে নিয়মিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো কোনো নাগরিকের পাসপোর্ট হারালে বা নষ্ট হলে নিয়মিত ফি দিয়েই নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে দ্বিতীয়বার কিংবা এর পরবর্তী প্রতিবারে একই কারণে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে গেলে নির্ধারিত ফির সাথে বাড়তি ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ বা দণ্ড ফি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ১২ দফা সম্বলিত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে কোনো ক্ষতি বা চুরির ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে বিষয়টি নথিভুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে জিডির সত্যতা যাচাই করে পাসপোর্ট কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবে। তবে নির্ধারিত তিন দিনে পুলিশি প্রতিবেদন পাওয়া না গেলেও নাগরিকরা জিডির কপি জমা দিয়ে আবেদনপ্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

ভিসা সংক্রান্ত কাজে কোনো ট্রাভেল এজেন্সি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট আটকে থাকলে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার সম্ভব না হলে পূর্ববর্তী পাসপোর্টটি স্থায়ীভাবে বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সাথে খোয়া যাওয়া পাসপোর্টের যাবতীয় তথ্য পুলিশের বিশেষ শাখার ইমিগ্রেশন তথ্যভাণ্ডারে সংযুক্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির স্বার্থে ইন্টারপোলকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হতে পারে। দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে অবগত করে ‘লস্ট সার্কুলার’ জারির মাধ্যমে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

নতুন পাসপোর্টের তথ্যের পাতার মধ্যেও কিছু পরিবর্তনের নির্দেশনা এসেছে। হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের বদলে ইস্যু করা নতুন দলিলে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়া পুনরায় আবেদনের সময় আবেদনকারীর নাম, পিতা-মাতার পরিচয় কিংবা জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পুরোপুরি পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে না; কেবল বিধিসম্মত ছোটখাটো সংশোধন বিবেচনা করা যাবে।

যদি কোনো পাসপোর্টের অংশবিশেষ নষ্ট হয় কিন্তু শনাক্তকরণ পাতা দৃশ্যমান থাকে, তবে তা জমা দিয়ে পুনরায় ইস্যুর আবেদন করা যাবে। তবে পাসপোর্ট পুরোপুরি বিনষ্ট হলে কিংবা পরিচয় প্রমাণের সুযোগ না থাকলে তা হারিয়ে যাওয়ার নিয়মেই নিষ্পত্তি হবে। একবার হারিয়ে যাওয়া বা বাতিল ঘোষিত কোনো পাসপোর্ট পরবর্তী সময়ে খুঁজে পাওয়া গেলেও তা পুনরায় সচল করা বা ভ্রমণের কাজে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের পরিত্যক্ত পাসপোর্ট পেলে সঙ্গে সঙ্গে থানা ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। পূর্বের সব আদেশ রহিত করে জারি করা এই সমন্বিত পরিপত্র দেশ ও বিদেশের সব আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের জন্য প্রযোজ্য হবে।