শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সম্পর্ক মেরামতে দিল্লি যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে, এখন ঢাকার পালা: সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একসময় বলা হয়েছিল যে শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। সাধারণ ধারণা ছিল উভয় পক্ষই এই অবস্থানে স্থির থাকবে। তবে পরবর্তীতে কিছু প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

সম্পর্ক মেরামতে দিল্লি যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে, এখন ঢাকার পালা: সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বন্ধন পুনরুদ্ধারে ভারত ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ও পদক্ষেপ দেখিয়েছে এবং এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার মূল দায়িত্ব এখন বাংলাদেশের ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা যদি পারস্পরিক সম্পর্ককে ন্যূনতম পর্যায়ে সীমিত রাখতে চায়, তবে সেটিও তাদের নিজস্ব বিবেচনার বিষয় এবং অতীতেও এমন মানসিকতা দেখা গেছে।

ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এসব মূল্যায়ন তুলে ধরেন। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং নয়াদিল্লির কাছে তাঁর তাৎপর্য সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে ভারতের গভীর কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ছিল। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁকে আশ্রয় না দেওয়ার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নয়াদিল্লির ছিল না।

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একসময় বলা হয়েছিল যে শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। সাধারণ ধারণা ছিল উভয় পক্ষই এই অবস্থানে স্থির থাকবে। তবে পরবর্তীতে কিছু প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকার পক্ষ থেকে বারবার প্রত্যাবর্তনের দাবি জানানো হলেও প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া, যা বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক বিচারিক উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। শেখ হাসিনা নিজ ইচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে ভারত সরকার কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নয়াদিল্লি অবশ্যই তাঁর নিরাপত্তা ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইবে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর মতো শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে তাঁর জীবনের চরম ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পরিবেশ জটিল হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্তব্য করেন, ডিজিটাল যুগে কারও ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ। তদুপরি শেখ হাসিনা ভারতে বন্দিদশায় নেই এবং যেকোনো পরিণতি বরণ করে তিনি নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সাবেক এই কূটনীতিক দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, উভয় পক্ষের পারস্পরিক ইচ্ছায় সম্পর্ক পুনর্গঠন অসম্ভব নয়। নয়াদিল্লি এ ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে, এখন বল ঢাকার কোর্টে। বাংলাদেশ যদি দূরত্ব বজায় রাখতে চায়, তবে ভারতও সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তিগুলোর ওপর ভিত্তি করে এগোবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়েও ভারত বাংলাদেশকে নিয়মিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহায়তা অব্যাহত রেখে দায়িত্বশীল আচরণ করে যাচ্ছে।