মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নৌবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে চূড়ান্ত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম এসবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, জলসীমায় নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন বহরে পি-৮ সমরাস্ত্র সমৃদ্ধ টহল বিমান, বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং ভারী রশদ সরবরাহকারী জাহাজ যুক্ত করার সার্বিক কার্যক্রম চলছে।
এর পূর্বে সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরাজমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার পর তারা এই নৌপথটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি ভাববে। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে সরাসরি অংশ না নেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যকার নিয়মিত যৌথ সামরিক অনুশীলনের পরিধিও কিছুটা সংকুচিত করা হয়।
এসবিএসকে দেওয়া তথ্যে এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন ঘাটিতে তাদের টহল ইউনিট অবস্থান নেবে এবং কোন কোন সামরিক বন্দর ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সাথে বর্তমানে কূটনৈতিক আলাপ আলোচনা সচল রয়েছে।
অবশ্য হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পূর্বে দক্ষিণ কোরিয়াকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, মন্ত্রিসভা এবং আইনসভার চূড়ান্ত সমর্থন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া পার হতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহন রুট হওয়ায় হরমুজ প্রণালির যেকোনো সাময়িক সামরিক অস্থিরতা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।