বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: ইরান

ইরানের এই পদক্ষেপ কোনো অনন্ত যুদ্ধ কিংবা বছরের পর বছর আলোচনার টেবিলে সময়ক্ষেপণ করার জন্য নয়; বরং শত্রুভাবাপন্ন পক্ষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তেহরানের যৌক্তিক শর্তগুলো মানতে বাধ্য করার কৌশল মাত্র।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: ইরান
দীর্ঘমেয়াদি কোনো সামরিক সংঘাত কিংবা ফলাফলবিহীন দীর্ঘ আলোচনায় জড়ানোর অভিপ্রায় নেই তেহরানের, তবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বজায় রাখার কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে দাবি মানতে বাধ্য করতেই লড়াই চালিয়ে যাবে তার দেশ।

ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে বৈশ্বিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার স্পিকার গালিবাফ এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রণক্ষেত্রের সফলতাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ভাবার সুযোগ নেই; বরং ময়দানে বিজয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক কূটনীতির কার্যকর মেলবন্ধন ঘটিয়ে সামগ্রিক সাফল্যকে সুরক্ষিত করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের এই পদক্ষেপ কোনো অনন্ত যুদ্ধ কিংবা বছরের পর বছর আলোচনার টেবিলে সময়ক্ষেপণ করার জন্য নয়; বরং শত্রুভাবাপন্ন পক্ষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তেহরানের যৌক্তিক শর্তগুলো মানতে বাধ্য করার কৌশল মাত্র।

এদিকে হরমুজ প্রণালীর সংলগ্ন কৌশলগত পানিসীমায় দুটি পৃথক বাণিজ্যিক জাহাজ সলিলসমাধির শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি নৌযানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং অপরটি সাগরে পাতা বিস্ফোরক মাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তলিয়ে যায়। একের পর এক এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ওই সামুদ্রিক করিডোরে পণ্যবাহী জাহাজের স্বাভাবিক গতি নাটকীয়ভাবে কমে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও সামুদ্রিক পথচলার সুরক্ষাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, সংঘাতময় এই পরিস্থিতি অতি দ্রুত সমাপ্ত হবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব বর্তমানে ওয়াশিংটনের কব্জায় রয়েছে এবং তেহরানের নৌ, আকাশ, রাডার নজরদারি ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সংঘাতের মুখে ইরানের প্রাথমিক ও মধ্যম সারির নেতৃত্ব পর্যায়ক্রমে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে এবং শেষমেশ পরবর্তী ধাপের নেতৃবৃন্দ তাকে নতুন করে কোনো শীর্ষ ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু না করার অঙ্গীকার নেওয়ার অনুরোধ পর্যন্ত জানিয়েছেন।