রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

শেখ হাসিনার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দেশজুড়ে কারফিউ জারি, দেখামাত্র গুলি চালানোর মতো প্রাণঘাতী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যাপক দমন-পীড়নের নীল নকশায় হাসানুল হক ইনু যুক্ত ছিলেন।

ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশের পাঁচশত পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে তিনটি পৃথক অভিযোগে তাকে দশ বছর করে মোট ত্রিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রোববার সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন

এর পূর্বে গত ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং অভিযুক্তের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল পূর্ববর্তী বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর, যেখানে ৩৯ পৃষ্ঠার মূল অভিযোগপত্রের পাশাপাশি এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র এবং তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও সংক্রান্ত প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় সাবেক মন্ত্রী ইনুকে।

প্রসিকিউশনের আনীত আটটি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক তকমা সেঁটে তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের প্ররোচনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নীতি নির্ধারক হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের দমনপীড়নের সিদ্ধান্তে সমর্থন ও নির্দেশনা দেওয়া এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে নিরীহ মানুষদের হত্যার পথ তৈরি করার অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ও বলপ্রয়োগের ভূমিকাকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দেশজুড়ে কারফিউ জারি, দেখামাত্র গুলি চালানোর মতো প্রাণঘাতী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যাপক দমন-পীড়নের নীল নকশায় হাসানুল হক ইনু যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ৪ আগস্ট গৃহীত কঠোর পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নে তিনি টেলিফোনে সক্রিয় থেকে দলীয় অনুসারীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ ছাড়া ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির সমর্থনে কুষ্টিয়ায় হাজারো নিরস্ত্র মানুষ রাস্তায় নেমে এলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের মদদে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ উঠে আসে অভিযোগে। সে সময় হাসপাতাল মোড় থেকে মজমপুরের দিকে অগ্রসর হওয়া শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় সশস্ত্র কর্মীদের গুলিবর্ষণে দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবলু ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নামের ছয়জন সাধারণ মানুষ বিভিন্ন পয়েন্টে গুলিতে নিহত হন। ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।