রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মসজিদে গোপন বৈঠক: জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনের তিন দিনের রিমান্ড

রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

মসজিদে গোপন বৈঠক: জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনের তিন দিনের রিমান্ড

রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার।

রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

এর আগে সিটিটিসির ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ ১২ জনকে আদালতে হাজির করেন। শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংসতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক শনিবার তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় জড়ো হয়েছেন। পরে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। ওই গ্রুপে তারা উগ্রবাদী বক্তব্য ও বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতেন। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, নাশকতার উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন।

সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন। অন্যদিকে, মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা, ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করা এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যও আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিলের পাশাপাশি তাদের জামিনের আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ১২ আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।