আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে দৈনিক রাতের অন্ধকারেও গড়ে তিন ডজনের মতো বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জলযান অত্যন্ত নিরাপদে এই জলসীমা অতিক্রম করছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রণালিটির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। বিগত রাতেও অসংখ্য বড় বড় জাহাজ উক্ত এলাকা পারাপার করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সুরক্ষাবলয়ে প্রতি রাতে গড়ে ৩০টি করে তেলের ট্যাংকার এই পথ ধরে বিশ্ববাজারে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। এই নিরবচ্ছিন্ন রফতানি ব্যবস্থার কারণেই সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংকট ও তেলের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ সীমার ভেতরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে তেহরানের বর্তমান অর্থব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হিসেবে অভিহিত করেন। দেশটির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন যে সেখানে মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে ৩৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, নিজস্ব মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা শূন্যের কোঠায় এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত বেতন প্রদান করাও কর্তৃপক্ষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি উত্থাপন করেন যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সাথে তেহরানের সার্বিক বিমান ও নৌ বহর এবং নজরদারি চালানোর রাডার প্রযুক্তি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস ও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে সরাসরি কোনো নতুন সশস্ত্র অভিযান চালানোর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি যেকোনো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার কথা বলেন। তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতৃত্ব সম্পর্কে চরম অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটে দেশটির প্রকৃত রূপরেখা ও নীতি নির্ধারণ কে পরিচালনা করছেন তা হয়তো সে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নিজেও স্পষ্টভাবে অবহিত নয়।