ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি করতে মার্কিন প্রশাসনের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।
তবে বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে অর্থনৈতিক কড়াকড়ির পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে লন্ডন। ইরাকের সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ ট্রেজারি মন্ত্রী জন হিলি আমেরিকার নতুন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইরান যেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে নিজেদের লাভের জন্য কাজে লাগাতে না পারে, সে ব্যাপারে যুক্তরাজ্য সতর্ক ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্বসম্পন্ন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি।
এর আগে সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির বিরুদ্ধে 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' শীর্ষক এক নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা থেকে ইরানকে আরও আলাদা করে ফেলাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেছেন, নতুন বিধিনিষেধের তালিকায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র খাত ও তেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জলযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক কারবারের সুবিধা দেওয়া সাধারণ অনুমোদনপত্র বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ।
নতুন এই পদক্ষেপে বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি তেল স্থানান্তরে ব্যবহৃত গোপন নৌবহর এবং এর সঙ্গে জড়িত একাধিক বিদেশি সংস্থাকে নিশানা করা হয়েছে। এসব বাণিজ্যিক সংস্থার সংযোগ রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সঙ্গে।
এদিকে উভয় দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মূল বিন্দুতে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক তৎপরতা শুরুর পর থেকে ইরানের পক্ষ থেকে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই চ্যানেলটি কার্যত অচলে রূপ নেয়।
পরবর্তী সময়ে ১৮ জুন একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা কার্যকরের পর কিছুদিন স্বাভাবিক চলাচল বজায় থাকলেও পুনরায় সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌ চলাচল আবারও সীমিত হয়ে পড়েছে।
তেহরান এখনও এই প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখার কথা বললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহনকারী এই নৌপথ সম্পূর্ণ মুক্ত এবং সচল রয়েছে।