ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বহিরাগত বা বিদেশি শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণ হ্রাস করে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জোর তাগিদ দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে নতুন আঞ্চলিক চুক্তি ও নিবিড় সহযোগিতার একটি অভিন্ন কাঠামো বিনির্মাণ করা সম্ভব হলে তা মুসলিম দেশগুলোর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।
পবিত্র ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে শনিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় গালিবাফ জানান, শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ ভ্রাতৃত্ব এবং পারস্পরিক ঐক্যই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রধানতম ভিত্তি।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত দিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে বাইরের কোনো শক্তি কখনোই মুসলিম দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করতে অক্ষম। ফলে বৈশ্বিক সহযোগিতার পরিবর্তে মুসলিম বিশ্বকে নিজেদের আন্তরিকতা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সুসংহত সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করেই নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে।
ইরানি স্পিকার আরও প্রস্তাব করেন, নতুন এই আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম ও চুক্তিভিত্তিক পদক্ষেপ এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলো বিদেশি ক্ষমতার মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের সম্পদে আত্মনির্ভরশীল হবে। এর ফলে দীর্ঘকালের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চির অবসান ঘটিয়ে ভ্রাতৃত্ব ও টেকসই সহযোগিতার এক নতুন ধারা সূচনা করা সম্ভব।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে তিনি যোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলি মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। প্রতিপক্ষের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং যেকোনো সাম্রাজ্যবাদী বা আধিপত্যবাদী অপচেষ্টা প্রতিহত করতে মুসলিম দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপ একটি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।