তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার মাধ্যমে দায়িত্বে আসেনি। বহুজনের আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই এই সরকারের সূচনা। ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদের হিসাব মূল্যায়নে দলীয় ইশতেহারের চেয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাটাই সাধারণ মানুষের কাছে প্রধান মানদণ্ড। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের আগ্রহের অভাব নাগরিকদের হতাশ করছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, সাধারণ মানুষ যখন রান্নার গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে চরম সংকট পার করছে এবং পরিবহন ভাড়াসহ নিত্যপণ্যের চড়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে, তখন অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না। এর পাশাপাশি বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কিংবা নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না করে এখনও পুরনো আমদানিনির্ভরতা বজায় রাখা হচ্ছে। এ ধরণের নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তনের আভাস নেই। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের দিনে লোক দেখানো উদ্যোগের চেয়ে নীতিগত পরিবর্তন ও সংস্কারমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।