শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

রপ্তানি বৃদ্ধিতে ২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলার অর্জনের বৃহৎ রোডম্যাপ বাজুসের

দেশের জুয়েলারি শিল্পকে বিশ্বমানের, স্বচ্ছ ও আধুনিক রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের মাধ্যমে আগামী ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ সোনা ও হীরার অলংকার পাঠিয়ে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

রপ্তানি বৃদ্ধিতে ২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলার অর্জনের বৃহৎ রোডম্যাপ বাজুসের

দেশের জুয়েলারি শিল্পকে বিশ্বমানের, স্বচ্ছ ও আধুনিক রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের মাধ্যমে আগামী ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ সোনা ও হীরার অলংকার পাঠিয়ে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের পর জুয়েলারি শিল্পকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।


রাজধানীতে আয়োজিত এক জমকালো ফ্যাশন কার্নিভালে আয়োজক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে এ সব নতুন লক্ষ্য ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, সাবেক আমলা ও রাজস্ব কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং শিল্প খাতের অংশীদারেরা উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, আধা শতাব্দীরও বেশি সময় আগে পথচলা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং চার লক্ষাধিক দক্ষ কারিগরের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে। এই গোটা প্রক্রিয়ার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা।

সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে কর ও ভ্যাটে ছাড় দেওয়ার কারণে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি বাজুস প্রতিনিধিরা জানান, অভ্যন্তরীণ বাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি এখন বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় অলংকারের অবস্থান তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি। তবে বিদ্যমান নীতিমালার কিছু অস্পষ্টতা এই খাতের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। বাণিজ্য নীতি সহজ ও বৈষম্যহীন করা গেলে স্থানীয় বাজারে অলংকারের দর প্রতি ভরিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে সংশোধিত স্বর্ণ নীতিমালা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে খাতটি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে অপ্রদর্শিত সোনা নির্দিষ্ট ফি প্রদানপূর্বক মূলধারায় নিয়ে আসার সুযোগ দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। তাদের মতে, এই ধরনের সুযোগ দিলে একদিকে যেমন সরকারের এককালীন বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হবে, অন্যদিকে জাতীয় সোনা মজুতের একটি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা সহজ হবে।

রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক আধুনিক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ রয়েছে। এতে জাতীয় জিডিপিতে এই খাতের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের জন্য রাজধানীতে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বা 'স্বর্ণপল্লী' বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে তারা। প্রস্তাবিত এই অঞ্চলে আধুনিক সোনার কারখানার পাশাপাশি হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণের বিশেষ ইউনিট গড়ে তোলা হবে।

প্রস্তাবিত বিশেষায়িত অঞ্চলে হীরার কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট করা গেলে শুধু হীরা খাত থেকেই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুরানো হীরা আমদানি বিধিমালা যুগোপযোগী করা এবং শুল্ক কাঠামোর উন্নয়ন ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে বাজুস আশা প্রকাশ করে যে, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেলে ২০৩১ সালের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত অর্জনে পৌঁছানো সম্ভব হবে।