নিজস্ব ভূখণ্ডে মার্কিন আক্রমণের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডান সীমান্তে অবস্থিত দুইটি সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী আঘাত হানার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।
রবিবার মধ্যরাতের পর পরিচালিত এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে বিবৃতি প্রদান করে তেহরানের আধা-সামরিক বাহিনীটি, যা পরবর্তীতে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিসহ স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়। অন্যদিকে জর্ডানের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া আটটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবারে প্রকাশিত আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে যৌথভাবে জর্ডানের কিং হোসেন এবং আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে লক্ষ্যভেদী আঘাত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির কঠোর জবাব হিসেবেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে বাহিনীটি। তাদের দাবি, এই সুনির্দিষ্ট হামলায় শত্রু পক্ষের কারিগরি সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে, যার ফলে ব্যাপক সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিবৃতিতে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও বার্তা দেয় তেহরান। এতে জোর দিয়ে বলা হয়, উক্ত জলসীমায় ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব খর্ব করার জন্য অপশক্তিগুলো বৈরিতা জারি রাখলেও তাতে তাদের মূল হতাশা ঢাকা সম্ভব হবে না। যেকোনো ধরনের দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জবাবে পরবর্তীতে আরও বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি।
এই উত্তেজনার পেছনের ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করে জানা যায়, রবিবার পারস্য উপসাগরের লারাক দ্বীপে কৌশলগত অবস্থান লক্ষ্য করে ওয়াশিংটন বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা গুড়িয়ে দেয়। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে নিশ্চিত করেন যে, চলতি বছরের জুলাই মাসের পর সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে এটিই প্রথম কোনো প্রত্যক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ। পেন্টাগনের অভিযোগ ছিল, উক্ত স্থানগুলো থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী সামরিক ও বেসামরিক জাহাজে জলজ মাইনবাহী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
তবে তেহরানের নিজস্ব বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী লারাক দ্বীপে উক্ত আক্রমণটি মূলত ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে চালানো হয়। উক্ত হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে স্বীকার করে আইআরজিসি, এবং সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানি ভূখণ্ডে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তা সাময়িক বিরতির পর আবারও চরম রূপ নিয়েছে। ইতিপূর্বে জুন মাসে পাকিস্তান এবং কাতারের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা তৈরি হলেও, মূলত জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। যার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই সপ্তাহের বিধ্বংসী আকাশপথের হামলা জোরদার করে এবং ওই অঞ্চলে আবারও কঠোর নৌ অবরোধ বহাল করে।