দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তির আওতায় মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গানভরের পাঠানো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রথম চালানটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে ভিড়েছে সংশ্লিষ্ট জাহাজটি এবং এর পরপরই গ্যাস খালাসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষায়িত এই কার্গোটি থেকে সর্বমোট এক লাখ ৪২ হাজার ৪০০ ঘনমিটার তরল গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমেরিকান জ্বালানি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পাদিত তেরো বছর মেয়াদি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে সর্বমোট ১১৭টি এলএনজিবাহী কার্গো দেশে আনার কথা রয়েছে। সেই নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, চলতি ক্যালেন্ডার বছরেই মোট পাঁচটি তরল গ্যাস কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা দেওয়া অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকির মুখে জ্বালানির বিকল্প ও নিরবচ্ছিন্ন উৎস নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের সাথে এই দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করে সরকার। সেই ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই অংশ হিসেবে প্রথম চালান নিয়ে ‘এলএনজি জেনেভা’ নামের বিশালাকার জাহাজটি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে।
রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, গতকাল অপরাহ্ন থেকেই গ্যাস রূপান্তরের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। এটিই গানভরের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর অধীন সরবরাহকৃত প্রথম আনুষ্ঠানিক চালান।
এর অল্প কিছুদিন আগেই অর্থাৎ গত ১৪ সেপ্টেম্বর আরও একটি এলএনজি চালান দেশে ভিড়েছিল। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক চালান পৌঁছানোর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহের সংকটে কিছুটা ইতিবাচক গতি এসেছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই সব মিলিয়ে নয়টি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা রয়েছে। যার মধ্যে সৌদি আরামকোর দুটি এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে মোট চারটি চালান ইতোমধ্যে দেশে খালাস করা হয়েছে। এর সাথে ১৭ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গোটি যুক্ত হলো। অবশিষ্ট সূচি অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটালএনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের আরও একটি জাহাজ দেশে আসার দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে।
এদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আটটার আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সঞ্চালনের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ভেতর অভ্যন্তরীণ গ্যাসকূপগুলো থেকে সরবরাহ করা হয়েছে এক হাজার ৬১২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বিদেশ থেকে আনা এলএনজি প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে বাকি ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।