যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক ও কূটনৈতিক অবরোধ জোরালো হওয়ার জবাবে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান।
গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট জলসীমায় একটি নতুন সংরক্ষিত বা প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকা চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটি। একই সাথে নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোলের দর দ্বিগুণ নির্ধারণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ-এর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি নির্ধারক মহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে অবহিত করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনীর চলমান অবরোধ সীমানা সংলগ্ন অঞ্চল ও পারস্য উপসাগরের বেশ কিছু অংশকে আওতাভুক্ত করে এই কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ওই নির্দিষ্ট সীমানায় অনাধিকার প্রবেশকারী যে কোনো নৌযানকে অবধারিতভাবে ইরানের নিজস্ব কালো তালিকাভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরদিক দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভারসাম্য ফেরাতে অতিরিক্ত চালানি বা তৃতীয় মাত্রার পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ হাজার তোমান থেকে বৃদ্ধি করে দশ হাজার তোমানে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ফাতেমে মহাজেরানি স্পষ্ট করেন যে, নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত মাসিক কোটার প্রাথমিক ও দ্বিতীয় ধাপে জ্বালানির নির্ধারিত মূল্যে কোনো রদবদল আনা হচ্ছে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি ভূরাজনৈতিক বৈরিতা চরম রূপ নেওয়ার পর থেকেই ইরানি মুদ্রার মানে তীব্র ধস পরিলক্ষিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে রিয়ালের ধারাবাহিক অবনমনের ফলে বর্তমানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য গিয়ে ঠেকেছে রেকর্ড দুই দশমিক দুই মিলিয়ন রিয়ালে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ইরানের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস তেল রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধের প্রত্যয়ে একটি সর্বাত্মক অর্থনৈতিক নীতিমালার রূপরেখা তুলে ধরেন। ওয়াশিংটনের সেই অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক অবরুদ্ধকরণ নীতির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে।
সূত্র : টাইমস নাউ