বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক সম্মাননা হিসেবে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ন্যায্যতা ছিল বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নজরুলসন্ধ্যা’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। কবির মহাপ্রয়াণের সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে ভারতীয় দূতাবাসের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিল।
দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন, নজরুল ছিলেন ক্ষণজন্মা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। এমন মহামানবের আবির্ভাব ধরাতলে সচরাচর দেখা যায় না এবং তিনি চিরকাল সবার হৃদয়ে অমলিন থাকবেন। বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে বিচার করলে তাঁর নোবেল প্রাপ্তি অত্যন্ত সঙ্গত ছিল বলেই তিনি মনে করেন।
একই আয়োজনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নজরুলের জীবনদর্শন গভীরভাবে ধারণ করা আবশ্যক। তাৎপর্যপূর্ণ এ আয়োজনের জন্য ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক মৈত্রী যেন চিরকাল অটুট থাকে।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, নজরুলকে কেবল বিদ্রোহের প্রতীকে সীমাবদ্ধ রাখলে তাঁর সামগ্রিক মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়; তিনি ছিলেন মূলত ভালোবাসা ও সামাজিক সাম্যের রূপকার। নজরুলের সমস্ত সৃষ্টিতেই সাধারণ জনতার আকুতি, উদার মানবতাবাদ এবং সাম্যবাদের স্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ উপস্থিতি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি একে একে ‘সন্ধ্যা গোধূলি লগনে কে’, ‘মোর প্রথম মনের মুকুল’, ‘আজ যে রাজাধিরাজ’, ‘শিউলিতলায় ভোরবেলায়’, ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ এবং ‘গোধূলির রঙ ছড়ালে কে গো’সহ জনপ্রিয় বেশ কিছু গান গেয়ে শোনান।
এ ছাড়া নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করে দর্শক মুগ্ধ করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। আবৃত্তির মাঝে নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা ও তাঁর নাট্যদল ‘ভাবনা’ নজরুলের সুরের মূর্ছনায় মনোজ্ঞ নৃত্য উপস্থাপন করে। সংগীত, কাব্যপাঠ ও নৃত্যকলার নান্দনিক আবহে জাতীয় কবির সৃষ্টির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আসরের সমাপ্তি ঘটে।