শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমগ্র মুসলিম জাহানের চিরন্তন ও প্রধান শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। আজ রোববার প্রকাশিত এক বিশেষ লিখিত বার্তায় তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যকার সংযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দেন।

মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমগ্র মুসলিম জাহানের চিরন্তন ও প্রধান শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা হোসেইনি খামেনি।

আজ রোববার প্রকাশিত এক বিশেষ লিখিত বার্তায় তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যকার সংযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দেন।


পবিত্র মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি শত্রুর বিভিন্ন কৌশল ভেস্তে দিতে ইসলামী উম্মাহর মধ্যে দৃঢ় সংহতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শাসক ও রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি নিজেদের প্রকৃত প্রতিপক্ষকে সঠিকভাবে শনাক্ত করে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করার পরামার্শ দেন তিনি।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব মুসলিমদের নিজেদের ভেতরের ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা অর্থনৈতিক ভিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে গৃহদাহ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে বিদেশি এই শক্তিগুলো মুসলমানদের ভেতরের ফাটল এবং সামরিক শক্তি ক্ষয়ের সুযোগ নিতে সর্বদাই উদগ্রীব থাকে, যাতে পরবর্তীতে গোটা অঞ্চলের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

মুসলিমদের বিভক্ততার সুযোগ নিয়ে আগ্রাসন ঘটছে দাবি করে তিনি ঐতিহাসিক প্রশ্ন তোলেন—ইসলামী বিশ্ব যদি শুরু থেকেই ঐক্যবদ্ধ থাকত, তবে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণকে এই ভয়াবহ নির্মমতা ও দখলের শিকার হতে হতো না।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যদি একই পতাকার নিচে এসে দাঁড়াত, তবে হাজার মাইল দূর থেকে আসা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের মূল্যবান ভূমি ও খনিজ সম্পদের দিকে নজর দেওয়ার সাহস পেত না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কোনো অবস্থাতেই প্রকৃত শত্রুকে চিনতে ভুল না করেন। তিনি ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রশাসন এবং বর্ণবাদী ইসরায়েলি সরকারকে মুসলমানদের প্রধান শত্রু বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্যমতে, এই প্রতিপক্ষ কেবল ইরান বা তাদের সমর্থিত সশস্ত্র প্রতিরোধ অক্ষের বিরোধী নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাসহ পুরো মুসলিম সমাজের অস্তিত্বকেই তারা হুমকি মনে করে।

উল্লেখযোগ্য যে, বিগত ছয় মাস আগে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি আর কোনো প্রকাশ্যে জনসমক্ষে আসেননি। স্মরণ করা যেতে পারে, উক্ত বিমান আক্রমণের মধ্য দিয়েই অঞ্চলে বড় আকারের সামরিক লড়াইয়ের উন্মেষ ঘটে, যাতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।