আল-মানসুরিতে সংগঠিত তীব্র বিস্ফোরণের ধাক্কা আশপাশের গ্রামীণ জনপদেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। একই সঙ্গে হাদ্দাতা শহরের সীমান্তবর্তী অংশে স্বয়ংক্রিয় ভারী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের পাশাপাশি মুহুর্মুহু কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া বানি হাইয়ান ও কাফার তেবনিত এলাকার নিকটবর্তী স্থানগুলোতেও প্রচণ্ড শব্দের বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করা গেছে। পাশাপাশি বিন্ত জুবাইল প্রশাসনিক অঞ্চলের বেইত লিফ সংলগ্ন ওয়াদি মাজলাম এবং নাবাতিয়ের জাওতার আল-শারকিয়াহ অঞ্চলেও একাধিক ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর এমন সাঁড়াশি তৎপরতার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ভীতি ও গভীর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকমাস ধরে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আকাশ ও স্থলপথে নিয়মিত আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। এ সামরিক অভিযানের কারণে স্থানীয় নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং তাদের নিজ বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য করার ব্যাপক অভিযোগ উঠছে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। লাগাতার এই সহিংসতার মুখে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার সাধারণ লেবানিজ নাগরিক গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান সামরিক বৈরিতা এবং ইয়েমেনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই লেবানন সীমান্তে সংঘাতের এই নতুন মাত্রা বিশ্বরাজনীতিতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বহুমুখী এই যুদ্ধাবস্থা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক মারাত্মক অস্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা