মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার দক্ষ জনবল নিয়োগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।
সরকারি পর্যায়ে আলোচনার সাপেক্ষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসব কর্মীদের মালেশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত নিরাপদ অভিবাসন প্রতিষ্ঠা, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধ এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ গমনের ঝুঁকি প্রতিরোধসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া সরকার ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছে। বিদেশে প্রেরণের পূর্বে কর্মীদের যথাযথ কাজের দক্ষতা ও ভাষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, কেবল বিদেশ গমনের আগ্রহ থাকলেই চলবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখে দক্ষ হয়েই পাড়ি জমাতে হবে। সুনামগঞ্জের সুবিধাজনক স্থানে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও ভাষা শিক্ষার ক্লাস চালুর সুযোগ তৈরি করা গেলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
সভায় অবৈধ উপায়ে দেশত্যাগ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রলোভনে পড়ে সুনামগঞ্জের অনেক তরুণ বেআইনি পথ অবলম্বন করছেন এবং অনেকে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। এসব ঘটনার পেছনের অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে হবে।
এসময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে বেআইনিভাবে লোক পাঠানোর সঙ্গে যুক্তদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আদেশ দেন মন্ত্রী। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত প্রতারকদেরও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
অননুমোদিত পথে গমন রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমে জীবনের তোয়াক্কা না করে বেআইনি পথে যাত্রার ভয়াবহতা এবং বৈধ উপায়ের সুবিধা তুলে ধরতে হবে। এই সচেতনতামূলক প্রচারণার সূচনা সুনামগঞ্জ থেকেই হবে বলে তিনি আশাবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, সঠিক মাধ্যমের অভাবে অনেকে জীবন বাজি রেখে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তবে আইএলওর ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
একই সভায় উপস্থাপিত চিত্রে সুনামগঞ্জের যুবকদের অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের বিবরণ তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ পথে ইউরোপে ঢোকার তালিকায় বাংলাদেশিদের অবস্থান শীর্ষে, যা বেশ চিন্তার কারণ। কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনায় যা প্রায়শই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জের কতিপয় তরুণ লিবিয়া সীমান্ত হয়ে জলপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বেআইনি অভিবাসন রোধ, প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য থামানো এবং নিরাপদ ও দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।
এছাড়া সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেনসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।