বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের মামলা

নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে অতীতের ব্যাপক প্রাণহানি ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের মামলা
২০২৩ সালের সাতই অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার পুরো দায় নিজের ওপর চাপানো এবং অসত্য বয়ান তৈরির অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সাবেক পরিচালক রোনেন বার।

আগামী সাতাশে অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে বুধবার নেওয়া এই আইনি পদক্ষেপ তেল আবিবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আদালতে পেশ করা একশত চৌত্রিশ পৃষ্ঠার বিস্তৃত অভিযোগপত্রে রোনেন বার দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে অনবরত মিথ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন। সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের আভাস মেলামাত্রই তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কারণ সরাসরি ফোন করার সুযোগ তাঁর ছিল না। এর বিপরীতে নেতানিয়াহু জনসমক্ষে দাবি করে আসছেন যে, নিরাপত্তা প্রধানরা ভোরে তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে যথাযথ সময়ে সতর্ক করলে এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। মামলাটিতে উল্লেখ করা হয়, জনগণের মনোযোগ ঘুরিয়ে দিতেই নেতানিয়াহুর পরিকল্পিত অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছেন, অথচ বিগত বছরগুলোতে নেতানিয়াহুর অনুসৃত ভ্রান্ত নীতির কারণেই গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এতটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল।

সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তার এই মামলার প্রেক্ষিতে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দল লিকুদ পার্টি এক তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে বিষয়টি নাকচ করে পালটা প্রশ্ন তুলেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জরুরি যোগাযোগের টেলিফোনের সংযোগ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো একটি বার্তা না পাঠিয়ে এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে; অথচ তৎক্ষণাৎ একটি কল বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারত। নজিরবিহীন সেই সংঘাতের পর পারস্পরিক দোষারোপের একপর্যায়ে দুই হাজার পঁচিশ সালের জুনে পদত্যাগ করেন রোনেন বার, যদিও তিনি শুরু থেকেই যথাসময়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

এদিকে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে সংঘাতের নথি ও ফোনালাপের সময় জালিয়াতির বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন নেতানিয়াহুর সাবেক সামরিক সচিব অবি গিল। ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেন, ভোর ছয়টা চল্লিশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের সময়কে কারসাজি করে ছয়টা উনত্রিশ মিনিটে রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল একজন স্টেনোগ্রাফারকে, যা তৎকালীন কর্মীদের আপত্তির মুখেও নথিভুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে যে, হামলার মাত্র কয়েকদিন আগে খোদ মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান আব্বাস কামেলও তেল আবিব সফর করে নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য বড় ধরনের অভিযানের ব্যাপারে সরাসরি সতর্ক করেছিলেন।

নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে অতীতের ব্যাপক প্রাণহানি ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতই অক্টোবরের সেই হামলায় এক হাজার দুইশত একুশ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করা হয়। পরবর্তী তিন বছর ধরে গাজায় চলা সামরিক আগ্রাসনে চুয়াত্তর হাজার তিনশ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতির সময়কালের প্রাণহানিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।